চুয়েটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত একতা বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবেঃ চুয়েট ভিসি

চট্টল সময় ডেক্স ঃ
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রামাণ্যচিত্র প্রতিযোগিতা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, দোয়া মাহফিল।
এ উপলক্ষে আজ ৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি. বুধবার সকালে চুয়েট এর একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আসিফুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার,
স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন প্রভোস্টদের পক্ষে কিউ.কে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এম.কে. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, কর্মচারী সমিতি/স্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব মো: জামাল উদ্দীন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিএসই বিভাগের ২০ ব্যাচের আদিল রায়হান, ওয়াটার রির্সোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২১ ব্যাচের আসাদুল্লাহ আল গালিব প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) জনাব মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ও কাউন্সিল শাখার সেকশন অফিসার জনাব মীর মোহাম্মদ রাতুল হাসান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত, তরজমা ও দোয়া পরিচালনা করেন চুয়েট স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদের ইমাম হাফেজ ক্বারী মাওলানা হামিদ উল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেছেন,“ইতিহাসের কিছু বাঁক বদল ঘটে তরুণদের বুকের তাজা রক্তে, যা একটি সাধারণ আন্দোলনকে রূপান্তরিত করে স্বৈরাচারের পতন ডেকে আনে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমনই এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিমসহ সকল বীরকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে সকল আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর আরো বলেন, আমাদের মাঝে বিভাজনের চেষ্টা চলছে, আমাদের একতা বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।  আমরা যার যার অবস্থান থেকে সর্বোত্তম সেবা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে আমরা দেখেছি, প্রশংসা করতে করতে কাউকে এমন লেভেলে নিয়ে যাওয়া হয় যে, তিনি আর প্রকৃত সত্য জানতে পারে না। ফলে সাধারন জনগণ কি চাই সেটা বুঝতে পারে না। আসলে যা সত্য, যা বাস্তব, যা ভালো, যা মন্দ, সেটা স্পষ্ট করে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। আমি মনে করি সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে গেলে সফলতা অনিবার্য। হিংসা-বিদ্বেষ-আক্রোশ পরিহার করে সমাজে শান্তি-স্থিতি প্রতিষ্ঠাসহ সব ধরনের অবিচার-নির্মমতা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হবে। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে দেশের প্রতি দায়িত্ব অনেক বেশি। তাই সকলকে সম্মিলিত ভাবে কাজে মনোনিবেশ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পর্কিত