
মীর আসলাম.চট্টল সময়
প্রবাসী স্বামী নয়ন শীল (৩০) প্রবাস থেকে হঠাৎ আসলেন বাড়িতে। তিনি বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করার পর নিজ শয়ন কক্ষে একাকি বসে কথা বললেন স্ত্রী প্রিয়া শীলের সাথে। অবশ্য তাদের মধ্যে কি বিষয়ে কথা হয়েছে জানা না গেলেও পাড়ার মানুষের ধারণা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হয়ত কোনো ঘটনা নিয়ে কথাকাটি হয়েছে। এই ঘটনার পর অভিমানী গৃহবধু স্বামী ঘরে প্রবেশের দেড় ঘন্টার মধ্যে শয়ন কক্ষ থেকে বের হয়ে আত্মহত্যা করলেন বাথ রুমে গিয়ে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে ১ জুন সোমবার সকালে রাউজান পৌরসভার আট নম্বার ওয়ার্ডের বান্যাপুকুর এলাকার জয় সেন শীলের বাড়িতে।

ওই বাড়ির কয়েকজন নারীর সাথে কথা বলে জানা যায় প্রবাসী নয়ন মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল ১০ জুন। পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে হঠাৎ করে তিনি চলে আসেন দেশে। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘরে এসে স্বভাবিক ভাবে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথাবার্তা বলেন। পরে গিয়ে নিজ কক্ষে বসে স্ত্রী সাথে কিছুক্ষণ একাকি কথা বলেছিলেন। সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রী প্রিয়া কক্ষ থেকে বের হয়ে বাথ রুমে চলে যায়। বিছানায় শোয়া ছিল নয়ন।
প্রিয়া দীর্ঘক্ষণ বাথ রুম থেকে বের হচ্ছে না দেখে পরিবারের এক নারী সদস্য বাথ রুমে গিয়ে দেখেন বাথ রুমের বাঁশের সাথে গলায় শাড়ী পেছানো অবস্থায় ঝুলে আছে ।
এসময় তার চিৎকারে স্বামী নয়ন শীলসহ পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে প্রিয়াকে নামিয়ে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করলে দেহ বাড়িতে নিয়ে আসে। এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে প্রিয়ার পরিবারের সদস্যরা আসে নয়নের বাড়িতে। পরে তারা রাউজান থানায় গিয়ে তাদের মেয়েকে হত্যার করেছে দাবি করে অভিযোগপত্র দেয়। প্রিয়ার বোন প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ তার বোনকে স্বামী হত্যা করেছে। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে বিকালে থানায় নিয়ে যায়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। জানা যায় নয়ন শীল সামাজিক ভাবে ধর্মীয় রীতি মেনে ২০১৯ সালে হাটহাজারী উপজেলার সরকার হাট এলাকার সুলাল শীলের কন্যা প্রিয়া শীলকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের এতবছর পরও তাদের সংসারে কোনো সন্তান না আসায় সন্তান জন্মদানের ব্যর্থতার জন্য স্বামী স্ত্রী পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছিল। স্বামী পক্ষের অভিযোগ রয়েছে প্রিয়া পরকিয়ায় জড়িত ছিলেন। একারণে প্রিয়া বারবার স্বামীর কাছে ডির্ভোজ চেয়ে আসছিল। প্রিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলেছেন এমন অভিযোগ সত্য নয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান বলেন আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠাচ্ছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।





