
চট্টল সময় ডেক্স ঃ
নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়ায় একটি সেফটি ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে পর পর তিনজন হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যখন ঘটনাটি ঘটে তখন ওই বাড়ির নারী পুরুষের বিশ্বাস ছিল প্রাণঘাতি দেবতা সেফটি ট্যাংক ভিতরে নামা মানুষকে বলি হিসাবে ভিতরে টেনে নিচ্ছে। এই বিশ্বাস ও আতংক থেকে ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ ট্যাংকের ভিতর বিষাক্ত গ্যাসক্রিয়ায় আক্রান্তদের উদ্ধারের এগিয়ে যায়নি। এই ঘটনা ঘটে ২৬ জুন শুক্রবার দুপুরের দিকে। জানা যায় পাড়ার কার্তিক দাসের ঘরের ট্যাংকের ভিতর বিষাক্ত গ্যাসক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দুজন পরস্পরের আত্মীয়। তারা হচ্ছে রাউজানের কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ। আগে উদ্ধার করা আহত শ্রমিকের নাম পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলেছেন ঝিকুটি পাড়ার কার্তিক দাসের একটি সেফটি ট্যাংক ছিল। বর্তমানে বাড়িটিতে সংষ্কার কাজ চলছে।

একই সাথে আগের সেফটিক ট্যাংকটি পরিষ্কার করতে উদ্যোগ নিয়ে তারা এক শ্রমিককে ট্যাংকের ভিতরে নামায়। এসময় ওই শ্রমিক ভিতরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করতে ভিতরে নামেন এই বাড়িতে বেড়াতে আসা গৃহকর্তার মেয়ের জামাই প্রদীপ দাস। তিনি অসুস্থ শ্রমিককে উপড়ে উঠিয়ে দিয়ে নিজে উপড়ে উঠার চেষ্টা করলেও বিষাক্ত গ্যাস আক্রান্ত হয়ে শরীর অবস হয়ে ভিতরে ঘোগাতে থাকে। এই অবস্থা দেখে সেখানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকা আত্মীয় সমীর দাস ভিতরে নামে প্রদীপকে উদ্ধার করতে নেমে সমীরও গ্যাস আক্রান্ত হয়ে কাতরাতে থাকে। এই ঘটনা দেখে পাড়ার লোকজন ভয় আতংকে একে একে সেখান থেকে দুরে সটকে পড়ে। তারা ভাবতে শুরু করে এই ধরণের ঘটনা প্রাণঘাতি দেবতার কাজ। একের পর এক বলি নিচ্ছে দেবতা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ভিতরে দুজনই বিষাক্ত গ্যাসক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভিতরে অচেতন হয়ে পড়ে। এলাকার আতংকিত মানুষ নিজেরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে না এলেও খবর দেয় রাউজান ফায়ার সার্ভিসে। খবর পেয়ে সেখান থেকে উদ্ধার কর্মীরা এসে দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।





