তিন বন্ধু সখের বাইকে চড়ে বেড়াতে গিয়ে লাশ হলো দুজন অন্যজন আছে হাসপাতালে

মীর আসলাম.রাউজান.

রাউজানের সর্তা খালের তীর ঘেষে থাকা মিলন মাস্টারের বাড়ি। এই বাড়ির আনুমানিক তিনশ গজ দুরে ধোপা পাড়া। পাশাপাশি থাকা দুটি বাড়িতে ৩০ মে শনিবার রাত থেকে চলছে গগন বিদারী আহাজারী। যে দুটি বাড়িতে রাতদিন থাকতো জনকোলাল, সেই বাড়ি দুটিতে এমন শোকবহ পরিবেশ সৃষ্টি বাইক দুর্ঘটনায় দুই বাড়ির দুই সন্তান মারা ঘটনার পর থেকে। এলাকাটি রাউজানের নোয়াজিষপুর ইউনিয়নে। এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় দুটি বাড়ির তিন যুবক জয়, সিমান্ত, জাহেদ ছিল পরস্পরের বন্ধু।
তারা তিনজনই ৩০ মে বের হয়েছিল জয় দেবের বাইক নিয়ে বেড়াতে । গিয়েছিল ফটিকছড়ি। সারা দিন তারা এখানে সেখানে আমোদফুর্তি করে ঘুড়ে বেরিয়েছে । মনের সুখে ঘুরে বেরিয়ে সন্ধ্যায় তারা বাড়ি ফিরে আসছিল। জয় বাইক চালাচ্ছিল তুফান গতিতে। এক সময় হারুউয়ালছড়ির সড়কে এসে জয় তার বাইকটির নিয়ন্ত্রণ হারায়। সড়ক পাশের বড় একটি গাছের সাথে প্রচন্ড শব্দে আছড়ে পড়ে তিন বন্ধুর বাহন বাইকটি। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে মারা যায় সীমান্ত ও জয়। গুরুতর আহত হয় বাইকের পিছনের আরোহী জাহেদ।

 

হতাহত তিন বন্ধুর বয়স ছিল বাইশ থেকে ছাব্বিশ এর মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানোর কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা। নোয়াজিষপুর ইউনিয়নে নিহত সীমান্ত ও জয়ের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায় ঘটনা শুনার পর থেকে নিহত দুজনের বাড়ির নারী পুরুষের গগনবিদারী আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল। লাশ এনে নিহত সন্তানদেও সৎকার করার পর এখন দুটি বাড়ির মানুষেন শোকের মাতম থামলেও এখন সকলেই বাকরুদ্ধ হয়ে আছে। চোখের পানি ঝড়াচ্ছে।

 

২২-২৪ বয়সী তিন বন্ধুর ব্যাপারে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায় তিনজনেই অবসরে এক সাথে ঘুরে বেড়াতো এখানে সেখানে। আড্ডা দিতো এক সাথে বসে। তাদের মধ্যে জয় দেব রাজমিস্ত্রির কাজ করে সঞ্চয়ের টাকায় কয়েক মাস আগে কিনেছিল সেকেন্ডহ্যান্ড একটি মোটরসাইকেল। সখের বাইকে তিনজন ঘুরে বেড়াতো।র্
জানা যায় তিন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ঈদের বন্ধে তারা বাইক নিয়ে ফটিকছড়িতে ঘুরতে যাবে। এই সিদ্ধন্তে তারা গত ৩০ মে শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়। তারা ফটিকছড়ি গিয়ে সেখানকার একটি পার্কে ঘুরে বেড়িয়ে দিন শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরছিল। বাইকটি চালাচ্ছিল জয়। চলার পথে তারা পরস্পরের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে গান গেয়ে মজা করছিল। এই অবস্থায় বাইকের গতি বেড়ে গিয়ে এক সময় বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারায় জয়। ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়ি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছে গোড়ায় এসে বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে জয়ের বাইকটি। সাথে সাথে ছিটকে পড়ে তিন বন্ধু। ঘটনাস্থলে মারা যায় সীমান্ত ও জয়। বাইকের পিছনে বসা জাহেদ দুরে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন আছে। জানা যায় নিহত সীমান্ত নোয়াজিশপুর ধোপি পাড়ার সনজিত দাশের একমাত্র পুত্র।

 

 

সে হাটহাজারী কলেজে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মিলন মাস্টারের বাড়ির জয় মল্লিক এসএসসি পাস করে পরিবারের হাল ধরতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করছিল। সে প্রয়াত মৃদুল মল্লিকের দুই সন্তানের মধ্যে জয় ছিল ছোট। আহত বন্ধু জাহেদের বাড়ি ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর। সে ওই গ্রামের মোজাহের মিয়ার ছেলে হলেও থাকতো জয়দের বাড়ির পাশে থাকা মামার বাড়িতে। এখানে মামার সাথে করতো কৃষিকাজ। ৩১ মে হতাহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক শোকবহ পরিবেশে। সকালে দুজনের দেহ দাহ করে দুটি পরিবারের শোকাহত সদস্যরা নিরবে বসে চোখের পানি ঝড়িয়ে শান্তনা খুজার চেষ্টা করছে। জয়ের বাবা বলেছেন দুর্ঘটনার পর ফেইজবুক লাইভে দুর্ঘটনার ভিডিও পেয়ে তারা সেখানে ছুটে যান। সেখানকার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সর্বশেষ পুলিশে কাছে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ বুঝে নিতে আবেদন করলে পুলিশ লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পর্কিত