চট্টল সময় ডেক্স ঃ
রাউজান পৌরসভার নয় নম্বার ওয়ার্ডের বাইন্যাপুকুর পাড় এলাকায় কোরবানীর পশু ব্যবসায়ীদের একটি গরুর সেটে ঘুরাঘুরি সময় এক অপ্রকৃতিত্ব ব্যক্তিকে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ২৫ মে সোমবার ভোররাতে এই হত্যাকানন্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছে। এলাকার জনসাধারণ সূত্রে জানা যায় সোমবার সকালে একটি ফেইজবুক আইডির লাইভ ভিডিওতে অনেকেই অজ্ঞাতনাম ওই বয়ষ্ক ব্যক্তিকে পিটাতে দেখেছেন। ভিডিওটি দেখা গেছে মোহাম্মদ সাব্বির কেপায়েত নামের একটি আইডি থেকে। দেখা গেছে গরুর সেটের সাথে থাকা একটি ইটভাঙার কারখানার যন্ত্রের সাথে বেঁধে ওই ব্যক্তিকে লাটিসোটা দিয়ে পিটানো হচ্ছে। ভিডিওতে শুনা গেছে গরু চোর সম্বোধন করে পিটানোর দৃশ্য। অবশ্য সকালে ফেইজবুক থেকে সেই ভিডিও মুছে ফেলেছে আইডি থেকে। গরু ব্যবসায়ীদের কেয়ারটেকার পরিচয়দানকারী সেলিম উদ্দিন নামের একজনের সাথে কথা বলে জানা যায় রাতে ওই গরুর সেটের পাহারায় ছিল সাব্বির ও কেফায়েতসহ কয়েকজন। সেলিমের দাবি তিনি রাতে ছিলেন না। সকালে ডিউটিতে এসে ঘটনা জানতে পারেন। শফিউল আলম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেছেন, গত এক সাপ্তাহ ধরে হত্যাকরা লোকটিকে বান্যাপুকুর পাড় ও চারাবটতল বাজার এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখেছেন। তিনি বলেন দেখে মনে হয়েছে নিহত ব্যক্তি ছিলেন একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে শ্রেণির বয়ষ্ক লোক।
স্থানীয়রা বলেছেন এই ঘটনায় পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। তার পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি। পরে পুলিশ এই ঘটনায় দুজনকে আটক করে নিয়ে গেছে। আটক দুজন গরুর সেটের মালিকনার সাথে জড়িত।
ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এক বাড়ির মালিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ভোর চারটার দিকে লোকজনের শোর চিৎকার শুনেছেন। কিন্তু তিনি ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ননি। ওই ব্যক্তির ঘরের বাইরে সিসিটিভি ক্যামরা থাকার কথা জানিয়ে বলেছেন ইচ্ছে করলে পুলিশ সেই ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখতে পারে। থানার কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকার করে বলেছেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা দুজনকে থানা নিয়েছে। থানায় নিয়ে যাওয়া দুজন হচ্ছে রাউজান সদর ইউনিয়নের হরিশঁখান পাড়া গ্রামের আবদুল সালামের পুত্র মোহাম্মদ রায়হান (৩২) ও একই এলাকার শফিকুর রহমানের পুত্র জয়নাল আবেদিন (৫০)। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন নিহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত সনাক্তে চেষ্টা চলছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তার দাবি করেন এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়নি।