চট্টল সময় ডেক্স ঃ
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর গ্রাম থেকে রাউজান থানা পুলিশ মাথায় আঘাত থাকা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এই লাশ উদ্ধার করা হলো পাহাড়তলীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মাসুদের লাশ উদ্ধারের তিন দিন পর। পুলিশ মঙ্গলবার উদ্ধার করে লাশের সুরুতহাল রির্পোট করার পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে নিহত ব্যক্তির মাথায় আঘাত জনিত কারণে রক্ত ঝড়েছে। এলাকার জনসাধারণ ও পুলিশ বলছে মারা যাওয়া লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন। নাম মোহাম্মদ রাশেদ(৪৫) । বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার পশ্চিম নানুপুরে। তিনি মান্নান ডাক্তারের বাড়ির বদরুজ্জমানের ছেলে।
জানা যায় রাশেদের নানার বাড়ি উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরম গ্রামে। গত সোমবার তিনি এসেছিলেন এখানে বেড়াতে। স্থানীয়রা বলেছেন তাকে গ্রামে সারাদিন গ্রামে ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর হেঁটে উরকিরচর গ্রামের দিকে যেতে দেখেছেন। তাকে এই গ্রামের যারা চিনে তারা বলেছেন নানার বাড়ি থেকে উত্তরে আনুমানিক পাঁচ’শ গজ উত্তরে নিহতের এক খালোতো বোন জেসমিন আক্তারের বাড়ি। এই বাড়ির উঠানে গতকাল সকালে মানুষ তার লাশ দেখতে পায়। স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে রাশেদ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে খালতো বোন জেসমিনের ঘরের দরজায় দরজা খোলোর জন্য ডাকাডাকি করছিল। কিন্তু ভিতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে উঠানে ঘুরাঘুরি করছিল। পরে কি হয়েছে তা সূত্র জানাতে পারেনি। সকালে বাড়ির লোকজন উঠানে রাশেদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন মাথা ফেটে অত্যাধিক রক্তক্ষণনে তার মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া রাশেদের চাচা আবুল কালাম এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে স্থানীয় সাংবাদিদের কাছে দাবি করে বলেন। তার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি সুষ্ঠ তদন্ত চান। তিনি জানান রাশেদ দুই সন্তানের জনক। ছিলেন মানসিক প্রতিবন্ধি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এপ্রসঙ্গে বলেন উরকিরচর থেকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছি। তিনি লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলে দাবি করে বলেন মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।