চট্টল সময় ডেক্স ঃ
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উত্তর-পূর্বাংশের পাহাড়ী এলাকা থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত আর টানা বৃষ্টিতে কয়েক হাজার পরিবার গত এক সপ্তাহ ধরে হাঁটুআর কোমড় পানিতে রয়েছে। রাস্তাঘাটের উপর প্রচন্ড স্রোত বয়ে যাওয়ায় উপজেলার বেশির ভাগ রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। চাষের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ক্ষেত খামার। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার এলাকায় গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানি বন্দি হয়ে আছে শত শত পরিবার।
দুর্গত এলাকার মানুষ জানিয়েছে বিতরতিহীন বৃষ্টির পানির সাথে উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সর্তা, ডাবুয়াসহ কয়েকটি খাল হয়ে প্রচন্ড বেগে পাহাড়ী পানি নেমে এখানে বন্যার সৃষ্টি করেছে। জানা যায় বৃষ্টির শুরুতে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে ডাবুয়া খালের বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে পৌর এলাকাসহ আশে পাশের ইউনিয়ন সমূহ ডুবিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টির পানির সাথে পাহাড়ী পানি যোগ হয়ে লোকালয় ডুবিয়ে দিয়েছে। ভেসে গেছে কয়েক শ পুকুরের মাছ। স্রোতে বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় রাস্তাঘাট।
এদিকে হালদা ও কর্ণফুলীর বর্ধিত পানির চাপে নদী পাড়ের ইউনিয়ন গুলো কোমড় পানিতে তলিয়ে আছে। উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন এমনিতে গত এক সপ্তাহ ধরে গ্রামের মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে আছে। তার আশংকা আমশ্যার আগে নদীতে বর্ধিত পানি চাপে বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় বন্যা কবলিত দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রান সহায়তা পৌছানো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাদ্যসহ বেকারীজাত খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনী জিনিষপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারি ভাবে ত্রান তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী নিদেশনায় দুর্গত এলাকায় ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন । গত শুক্রবার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গতদের হাতে রান্না করা খাবার বিতরণ করতে দেখা গেছে রাউজান পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি অংচিং মারমাকে। কোমড় পানি মারিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার বিতরণ করেন। দুর্গত মানুষের ঘরে ত্রান পৌছে দিতে দেখা গেছে জেলা যুবদল নেতা সাবের সুলতান কাজল, শাহজাহান সাকিল, মোহাম্মদ আলী সুমনসহ আরো অনেককে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম রাহতুল ইসলাম বলেছেন তিনি পানি মাড়িয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের দুর্ভোগ দেখেছেন। দিয়েছেন ত্রান সহায়তা। এই কর্মকর্তা বলেছেন যাদের বাড়ি ঘরে বেশি রয়েছে তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।